সময়ের সাথে দারুণ দ্বন্দ্ব আমার চিরকাল,
সময়কে পেছনে টেনে ছবি আঁকে সমকাল।
ক্যানভাসে নির্বাক শীতল কোনো পোর্ট্রেট,
এভাবেই চলে সকাল-সন্ধ্যা নিশির চিত্রপট।
ঝড়ে উপড়ে পড়া বৃক্ষ শত শত,
ক্ষয় হলো কত ইমারত, নিস্পন্দ প্রাণহীন বন্দর কত।
দাঁড়িয়ে আছি একা তাণ্ডবের অরণ্যে, জনপদ ভাঙে,
এত ভাঙচুর, তবু কোথাও তো রয়েছ পথের খাঁজে।
প্ল্যাটফর্মে হঠাৎ লোডশেডিং, ভুতুড়ে পরিবেশ,
আদিম গন্ধটুকু পাই তোমার অস্তিত্ব আশপাশ।
ভিড়ের ভেতর ছায়াদের বিড়বিড় সংলাপ,
মেঘে মেঘে কৃষ্ণপক্ষ ডাকে জোছনার সন্তাপ।
পৌষের ঘন কুয়াশা, বেপরোয়া শীত, হিম হাওয়া,
শুকনো পাতাদের ওড়াউড়ি, আসা-যাওয়া।
নৈঃশব্দ্যের অন্ধকার ছুঁয়ে তুমিও কি রহস্যচাদর?
নিয়ত পদচিহ্ন রেখে যাও বারবার, প্রতিবার।
ক্ষয়ে যাওয়া পায়ের ছাপ—এসেছি সেই নদীতীরে,
জলবৃক্ষটি রেখেছি যতনে, একান্ত নিজের করে।