অয়নান্ত
সাঈদা আজিজ চৌধুরী
মহীরুহের গভীরে হৃদয় খুঁড়ে আসন,
ভেবেছি অনন্তকাল ধরে বৃক্ষটি আশ্রয়, প্রশ্রয়।
রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে, মেঘের ডানায় অদৃশ্য সিংহাসন;
দুঃখ, বেদনা শুষে সালোক-সংশ্লেষণ।
সেখানে কলস্বরে নদীর গান, সমুদ্রের তরঙ্গ;
ভোরের সূর্য, রাতের চাঁদ—সৌন্দর্যের আধার।
পাহাড়ী মেঘের জমাট কলরব, শিশির বিন্দু,
লাল, নীল, গোলাপি বসন্ত, অগাধ সিন্ধু।
নির্দ্বিধায় সকল ব্যথার উপসর্গ, অনুসঙ্গ;
জীবনের সব কাঁটা বিঁধে নেয় নিজ দেহে।
আর আমি—কখনো গোলাপ, কখনো অলকানন্দা,
কখনো বর্ষার ফুল, বসন্তের কুসুমকুমারী ললিতা।
তারপর দূরগামী জাহাজের মাস্তুল, টলমল জল;
বিকট চিৎকার বুকের ভেতর—শুনতে পেলাম কেবল আমি।
অনিশ্চিত আগামী, অস্ফুট, অস্থির মেঘলা সকাল;
জোনাকের সাথে রাত জাগে, জাগে স্বাতী নক্ষত্র।
মহীরুহের শস্যদানা, দেহের ভেতর ঠিকানা,
কুসুমকুমারী মৃত্তিকা—বট পাকুড়ের হাজার ঝুড়ি।
নৃশংস দেবতাদের বৃক্ষ কাটার শব্দ শুনি;
অয়নান্তের মহোৎসব—উদাস বৃক্ষের নিঃশ্বাস গুনি।