
রাশেদ কবীর: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে বিদেশি নাগরিকদের জন্য ‘অন-অ্যারাইভাল’ বা আগমনী ভিসা সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সরকার। আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট এক মাস এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বহিরাগতদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখার অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ নির্দিষ্ট কিছু রাষ্ট্রের নাগরিকরা পর্যটন, ব্যবসা বা বিনিয়োগের কাজে বাংলাদেশে এলে বিমানবন্দরেই ভিসা সুবিধা পেয়ে থাকেন। তবে নির্বাচনের কারণে এই সুবিধা এক মাসের জন্য বন্ধ থাকছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোতে নির্দেশনা পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই সময়ে যারা বাংলাদেশে আসতে চান, তাদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দূতাবাস থেকে আগেই ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। যেসব দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস নেই, সেখানকার নাগরিকদের এই সময়ে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বা নিরুৎসাহিত করতে বলা হয়েছে। ভুটান ও মালদ্বীপ সরকার ইতিমধ্যেই থিম্পু ও হুলহুমালেতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে নিজ নিজ নাগরিকদের সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভিসা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেবল নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে আসা বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য এই কড়াকড়ি শিথিল থাকবে। নির্বাচন কমিশন, পররাষ্ট্র বা তথ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষকদের পাসপোর্টে ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ’ সিলসহ ভিসা দেওয়া হবে এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভিসা ফি মওকুফের সুযোগ থাকবে। তবে সাধারণ ভ্রমণকারী বা ব্যবসায়িক কাজে আগতদের ক্ষেত্রে স্পন্সর, হোটেলের বুকিং, আগমনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এবং ফিরতি টিকিট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো নথিপত্র নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে ভিসা প্রদান করা হবে না।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিদেশি সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশে আগমনের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিমানবন্দরসহ দেশের সব স্থল ও নৌ-বন্দরে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিদেশিদের আগমন ও প্রস্থানের তথ্য প্রতিদিন এক্সেল ফরম্যাটে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।