তুমি যখন আমায় ভেবে একটু হাসো,
বলতে পারো? কেন আমার স্বপ্নেরা সব ছুটে বেড়ায় দলে দলে,
মেঘের নামে, নীলাভ খামে।
তুমি যখন আমার চোখে চোখ রাখো ইশারায়,
বলতে পারো কেন আমার হৃদয়টা বেশ উদাস হয়ে থমকে দাঁড়ায়?
তুমি যখন মুচকি হেসে ঠোঁট নাড়িয়ে কথা বলো আলতো ছোঁয়ায়,
বলতে পারো কেন আমার হৃদপিঞ্জরে
অল্প করে দোলনচাঁপা আর কাঠগোলাপের মিছিল ওঠে?
কৃষ্ণবরণ রঙের লাভায় বেশ,
চমকে ওঠে ভালোবাসার রেশ।
তুমি যখন মেঘকালো চুল খোপায় বাঁধো,
বলতে পারো কেন আমি বাঁধা পড়ি সেই দুষ্ট হাওয়ায়?
তুমি যখন নূপুর পায়ে পা দুলিয়ে সামনে হাঁটো গা এলিয়ে,
বলতে পারো কেন আমি আটকে থাকি দুষ্ট নেশায়?
ঝনঝনিয়ে নিদারুণ সব বাজনা বাজে ধাতব দোলায়।
তুমি যখন জোড়ালো ঐ ডাগর চোখে কাজল পরো,
বলতে পারো কেন আমি বিষাদ কুড়াই
এক খামখেয়ালির অলস মায়ায়?
তুমি যখন পাশে এসে হঠাৎ দাঁড়াও,
মাঝে মাঝে সোফায় বসে আমার বুকে হেলান দাও,
বলতে পারো কেন আমি অষ্টপ্রহর শ্বাস নিতে চাই,
একটু খানি কালো চুলের পারফিউমের ঘ্রাণের নেশায়?
অন্তহাওয়ার উবন্ত আশ চুলের খোপায়।
তুমি যখন ডাকো আমায় ভীষণ রকম অবহেলায়,
স্বপ্ন মেঘের শুভ্র ছোঁয়ায় কিংবা কোনো সন্ধ্যাতারায়,
তখনো আমি টের পাই তবু নিষ্ঠুরতা,
কারণ আমার মণিকোঠায় অন্ধপ্রহর নির্জনতা।
আকাশতলে শেউলা ছাদের চিলেকোঠায়,
চাঁদের পাহাড় শৈলচূড়ায়,
জন্মেছে কিছু তাজমহল আর অর্ধ হিমালয়!