
কে,এম,আশিকুল আলম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ আসনে জয়লাভের ভিত্তিতে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী শিগগিরই দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে। ইতোমধ্যে শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার আশায় সক্রিয় তৎপরতা শুরু করেছেন। টাঙ্গাইল জেলায় সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক নাছরীন আক্তার লাকীর নাম শোনা যাচ্ছে।দলের তৃণমূল নেতাকর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় জনগণ তাকে সংরক্ষিত নারী এমপি হিসেবে দেখতে চান ।তিনি শিক্ষকতার পেশা সহ বিভিন্ন দুস্থ সমাজের শিশু ও বৃদ্ধদের খাদ্য, পোশাক এবং চিকিৎসা সেবা সহায়তা প্রদান করে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি ইতোমধ্যে নিজ এলাকায় মেহনতী মানুষের জীবনসংগ্রাম প্রত্যক্ষ করেছেন।স্থানীয় নাগরিকরা জানান, প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ে এবং মহিলাদের অধিকার নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এসময় তিনি তার কলেজ সহ দেশের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনলাইন অফলাইনে উৎসাহ প্রদান করে আন্দোলনের সময় একাধিক হামলা ও হয়রানির মুখোমুখি হলেও তিনি আপসহীন অবস্থানে অবিচল ছিলেন।
শিক্ষক সমাজে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখেন শুধু তাই নয় প্রতিবাদী কন্ঠে সর্বদা আওয়াজ তোলার জন্য বহুবার হয়রানি হয়েছেন বিএনপি করে বলে চাকরি থেকে অব্যহতি দেবার অপচেষ্টা করা হয়েছে ।পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত থেকে মানবিক সহায়তায় সক্রিয় দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

স্থানীয়রা বলেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারীল আসনে প্রতিনিধি মনোনীত হলে তিনি শিক্ষা ব্যাবস্থা ,কৃষকসমাজ, নারী ও শিশু অধিকার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা বিষয় জাতীয় পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন এবং সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবেন ।
২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল জেলা, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার পোলিং এজেন্ট ট্রেনিং এর কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছেন ।
প্রশ্ন : আপনি কেন সংরক্ষিত নারী আসনে একজন এমপি হতে চাচ্ছেন?
আমি নাছরীন আক্তার লাকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএসসি(সম্মান)এমএসসিতে ১ম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ডিগ্রী কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিলে অধ্যয়নরত অবস্হায় সিটি ইউনিভার্সিটিতে খন্ডকালীন সময়ের জন্য বিবিএ-এমবিএ ক্লাসের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।
বিগত দিনে কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচী এবং দলের মিছিল মিটিং ও আন্দোলন সংগ্রাম সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি।
আমার নির্বাচনী এলাকায় অতি জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলো কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে (রাস্তা-ঘাট,স্কুল-কলেজ,ড্রেনেজ ব্যবস্হা সহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড) নিশ্চিত করবো।প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সাহেবের ঘোষনা মোতাবেক ৩১ দফা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ত্যাগ শ্রম বিনিয়োগ করে দেশের বেকারত্ব ঘোচাতে উদ্যোগ নিব এবং কৃষকের কৃষিকার্ড,কৃষি ঋন,সার-বীজ সহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋন গ্রহণ করার বন্দোবস্ত করবো।
নারীর কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা বাড়াতে এবং বাল্যবিবাহ রোধ করতে প্রশাসনিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করনের লক্ষ্যে কাজ করবো।
আমার দল যদি আমাকে এমপি হিসেবে মনোনীত করেন তাহলে আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক শিক্ষার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের শিক্ষাখাত ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ্।
আমি এমপি হতে চাই কারণ নারীদের জাগ্রত করতে পারেনি বিগত সময়ের আওয়ামী সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা যারা ছিলেন,আমি বিশেষ করে নারীদের সুন্দর মানষিকতা এবং অর্থনৈতিক ভাবে জাগ্রত করার চেষ্টা করব। আমি যেহেতু শিক্ষকতা করি সেহেতু মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আমি সমাজ কে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে গুছাতে পারবো বলে মনে করি ইনশাআল্লাহ।
আমি সামাজিক ,রাজনৈতিক,শিক্ষা,স্বাস্থ্য প্রতিটি সেক্টরে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণকালীন জীবন থেকে ৩৪ বছর ধরে সম্পৃক্ত ছিলাম আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ । আমি কাজের মাধ্যমে নিজেকে রাষ্ট্রের জনগণের কাছে জবাবদিহির জায়গায় নিয়ে আসতে চাই ইনশাআল্লাহ ।প্রশ্ন: সংসদে গেলে নারীদের জন্য আপনার প্রধান অগ্রাধিকার কী হবে?
আমার প্রধান অগ্রাধিকার হবে নারীর নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা। পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ বাড়ানোর জন্য কাজ করব।
প্রশ্ন: সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে জনগণের সাথে কিভাবে সম্পর্ক রাখবেন?
আমি নিয়মিত এলাকায় জনসাধারণের সাথে মতবিনিময় সভা করব, তাদের সমস্যাগুলো শুনব এবং সেগুলো সংসদে তুলে ধরব। জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখা একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব।
প্রশ্ন: নারীর ক্ষমতায়ন বলতে আপনি কী বোঝেন?
নারীর ক্ষমতায়ন মানে শুধু রাজনৈতিক পদ নয়, বরং শিক্ষা, অর্থনীতি, সামাজিক মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সমান অধিকার নিশ্চিত করা।
প্রশ্ন: তরুণ প্রজন্মের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী?
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি শিক্ষা এবং উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়ানোর জন্য কাজ করব। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দেশ এগিয়ে যাবে।
প্রশ্ন: আপনার রাজনৈতিক আদর্শ কী?
আমার রাজনৈতিক আদর্শ হচ্ছে জনগণের কল্যাণ, সুশাসন এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা। আমি সব সময় দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেব।
প্রশ্ন: নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে কী উদ্যোগ নেবেন?
আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত বিচার ব্যবস্থাকে কার্যকর করার জন্য কাজ করব। পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করব।
প্রশ্ন : শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কি?
স্থানীয় স্কুল-কলেজের মান উন্নয়ন, মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার ব্যবস্থা করব।
প্রশ্ন : নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কি?
নারীদের জন্য সেলাই, আইটি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তার উদ্যোগ বাড়াতে কাজ করব, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।
প্রশ্ন : অবকাঠামো উন্নয়ন আপনার পরিকল্পনা কি?
গ্রামীণ রাস্তা, ড্রেনেজ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে কাজ করব।
প্রশ্ন : তরুণদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা কিভাবে করবেন?
দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি শিক্ষা এবং উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে উদ্যোগ নেব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,আমি জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে, স্থানীয় সমস্যাগুলো শুনে এবং সবার অংশগ্রহণে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই।”
প্রশ্ন : বাজেট প্রণয়নে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কি?
সংসদে বাজেট প্রণয়ন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমার ভূমিকা হবে জনগণের চাহিদা ও বাস্তব সমস্যাগুলো বাজেট আলোচনায় তুলে ধরা। বিশেষ করে নারী, শিশু, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য আমি সংসদে যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব ও মতামত উপস্থাপন করব।
আমি চেষ্টা করব যাতে বাজেট প্রণয়নের সময় গ্রামীণ উন্নয়ন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ থাকে। পাশাপাশি বাজেটের স্বচ্ছতা ও কার্যকর বাস্তবায়নের বিষয়েও সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রাখব।
আমার লক্ষ্য থাকবে এমন একটি জনমুখী বাজেট নিশ্চিত করা, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
প্রশ্ন : সংসদে গেলে কি কি বিষয়ে আপনি অগ্রাধিকার দিবেন
নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর আইন ও উদ্যোগকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করব।তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেব।মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং গ্রামীণ পর্যায়ে সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করব।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি, নারী উদ্যোক্তা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগে গুরুত্ব দেব।রাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রাখব।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো,আমি সংসদে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা তুলে ধরে একটি উন্নত, ন্যায়ভিত্তিক এবং সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে কাজ করতে চাই।
প্রশ্ন : আপনি এমপি হলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি আপনার মনোভাব ও আচরণ কেমন হবে?
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। তাই সংসদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকা স্বাভাবিক। আমি মনে করি ভিন্ন মত থাকলেও পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা এবং সৌজন্য বজায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আমি সব রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করব। জাতীয় স্বার্থ, উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণের প্রশ্নে আমরা সবাই একসাথে কাজ করতে পারি—এটাই হওয়া উচিত সংসদীয় রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
গঠনমূলক সমালোচনা ও ইতিবাচক আলোচনা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। তাই আমি মতের ভিন্নতা থাকলেও সবসময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও শালীনতার সাথে সংসদে দায়িত্ব পালন করতে চাই।