
অকস্মাৎ দৃষ্টিগোচর,
বিস্ময় ভরা দু-চোখ, চিরচেনা
অমলিন তুর’র নূর ছড়ানো স্নিগ্ধ হাসি!
সহসাই ধরণী স্থবির হয়ে পড়লো যেনো,
মনে হলো ;
থমকে গেলো সময় কিছুক্ষণ’র তরে।
আসলে ক্ষণকাল নয়,
টের-ই পাইনি কখন যে ——–
সহস্র কোটি বছর পার হয়ে গেলো পলকেই।
কি মায়াবী! সেই বদনখানি
থ হয়ে চেয়ে আছি, রয়েছি চেয়ে,
কি দেখছি আমি! আহা কি দেখছি
নিমেষেই পাথুরে মূর্তিরূপ ———-
চারিদিকে অমানিশার সামিয়ানায়
গেলো যে ঢেকে।
অস্থি-মস্তিষ্ক ধমনী কাজ করছিলো না
যেনো ব্লাকআউট কিছুক্ষণ —–
দশদিক হতে পরতে পরতে মেলে ধরেছিলাম
নিখুঁত বিন্যাসের আলোকচ্ছটা!
জন্মের পর হতে ———–
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে পরম পরশে পরতে পরতে
খুঁজে ফেরা ঐ মমত্ব ভরা আদুরে বদনখানি।
ধারা ভাষ্য কর্ণকুহরে করে নি প্রবেশ
চলন-বলন প্রতিটি পদক্ষেপ —–
ওঠ-বস কথন হাসি গাম্ভীর্যের খুটিনাটি
দেখে দেখেই করলাম পার———-
লক্ষ কোটি বছর?
ও হ্যাঁ, মনে হলো এক মুহুর্ত!
কিন্ত না,
লক্ষ কোটি বছর হলো যে পার
কখন, কিভাবে? জানি না কিচ্ছুটি নয় বোধগম্য।
হৃদপিণ্ড মোচড় দিতে না দিতেই স্থীর পলক,
আহ্ হা!
এই তো সে-ই —-
যার জন্য শত সহস্র আরাধনায় মনুষ্য জনম লাভ
জন্ম হতে পলকহীন খুঁজে চলেছি —-
দুর্বোধ্য দুর্গম পথে নিরন্তর ছুঁটেছি তো ছুঁটেছি
পার্থিব জগৎ-সংসারে এপ্রান্ত হতে অপর প্রান্ত।
তথাপি; কোথাও মেলেনি দেখা!
তবে কেনো আজ?
একের পর এক ছবি হয়ে এলে!
বিমূর্ত নও, দয়া করে মূর্ত হও
নইলে;
গগন বিদারী আর্তনাদে হবে খন্ড-বিখন্ড
আসমান-জমিন
থরোথরো কম্পনে মৃত ভিসুভিয়াস জেগে উঠবে!
উত্তপ্ত গলিত লাভায় মুড়ে যাবে নভোতল
অতল গহ্বর হতে
ফুঁসে উঠবে সমূদ্র’র নোনা জল——
গোগ্রাসী তোরে ভেসে যাবে পার্থিব জগত।
তবুও;
তোমায় চাওয়ার সাধ মিটবে না।
বুক-পাঁজর জুড়ে এঁকেছিলাম ঐ মুখচ্ছবি
প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে———
এভাবে ফেলে চলে গেলে!
কেউ কি এভাবে ফেলে চলে যায়?
মনে রেখো, ওহে পরমাত্মা
অনন্তকাল তোমাকেই খুঁজে যাবো পৃথিবীর পরে—
পবিত্র কাবার পথে পথে—-
না পেলে?
দেখে নিও ;রোজ হাশরের ময়দানে —
পইপই করে খুঁজে নিবো তোমায়!
সেই প্রতিক্ষায় গুণছি প্রহর ।
কোন দিকে তাকানোর নেই তো সময় ।
আর;
নেই তো সময় ইচ্ছে আকাঙ্খা
শুধু আমৃত্যু নয়, মৃত্যুর পরেও
জাগবে না তোমা হীনা কোন সাধ,
অন্য সব কিছু
হয়ে যাক না বরবাদ-ধূলিসাৎ।
সৃজন কালঃ ৩০ মার্চ ২০২৬ খ্রীঃ