1. dailyrodrodipto@gmail.com : রৌদ্রদীপ্ত : রৌদ্রদীপ্ত
  2. info@www.newsbddailyrodrodipto.online : রৌদ্রদীপ্ত :
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন

রমজান: আত্মার পরিশুদ্ধির মাস / (ইকবাল জিল্লুল মজিদ)

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

রমজান: আত্মার পরিশুদ্ধির মাস –

রমজান ও মানসিক স্বাস্থ্য: অন্তরের প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক থেরাপি / (ইকবাল জিল্লুল মজিদ)

আজকের পৃথিবীতে মানুষ বাহ্যিকভাবে উন্নত হলেও অন্তরে ক্লান্ত। উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, প্রতিযোগিতা, অস্থিরতা এসব যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী। আমরা ব্যস্ত, কিন্তু শান্ত নই; সফল, কিন্তু তৃপ্ত নই। এই প্রেক্ষাপটে রমজান কেবল একটি ধর্মীয় মাস নয়; এটি মানসিক পুনর্গঠনের এক গভীর সুযোগ, এক আধ্যাত্মিক থেরাপি।

রমজান আমাদের জীবনের গতি ধীর করে। বছরের অন্য সময় আমরা ছুটে চল অর্থ, কাজ, সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু রমজান এসে আমাদের থামতে শেখায়। সেহরি, ইফতার, তারাবি এই নিয়মিত সময়চক্র আমাদের জীবনে একটি শৃঙ্খলা আনে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা যায়, রুটিন ও রিদম মানসিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি। যখন জীবনে নিয়ম তৈরি হয়, তখন উদ্বেগ কমে এবং মন ভারসাম্য খুঁজে পায়।

স্ট্রেস বা মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হলো নিয়ন্ত্রণহীনতা। মানুষ যখন মনে করে সবকিছু তার হাতে নেই, তখন ভয় ও উৎকণ্ঠা বাড়ে। রমজান আমাদের শেখায় আত্মসমর্পণ। আল্লাহ তাআলা আল-কুরআন-এ বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।” (১৩:২৮)। এই আয়াত কেবল আধ্যাত্মিক নির্দেশ নয়; এটি এক গভীর মানসিক সত্য। যখন মানুষ আল্লাহর স্মরণে মনোনিবেশ করে, তখন তার দুশ্চিন্তা হালকা হয়। কারণ সে উপলব্ধি করে সে একা নয়।

রোজা মানসিক সংযমের অনুশীলন। সারাদিন ক্ষুধা সহ্য করা মানে ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করা। এই আত্মসংযম ধীরে ধীরে আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়ায়। কেউ রাগালে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দিয়ে ধৈর্য ধরার অভ্যাস তৈরি হয়। এই চর্চা মানসিক স্থিতি গড়ে তোলে।

রমজানে দোয়া ও ইবাদতের মুহূর্তগুলো একধরনের ধ্যান বা মেডিটেশনের মতো কাজ করে। যখন একজন মানুষ নির্জনে বসে কুরআন তিলাওয়াত করে বা গভীর রাতে দোয়া করে, তখন তার মন একাগ্র হয়। হৃদস্পন্দন ধীর হয়, চিন্তার অস্থিরতা কমে। এই অবস্থা অন্তরে প্রশান্তির জন্ম দেয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সহানুভূতির বিকাশ। রমজানে ক্ষুধা অনুভব করে মানুষ দরিদ্রের কষ্ট বুঝতে শেখে। এই সহানুভূতি মানুষের ভেতরে ইতিবাচক আবেগ তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, দান ও সহমর্মিতা মানুষের মস্তিষ্কে সুখ সংক্রান্ত হরমোন সক্রিয় করে। তাই সদকা ও সাহায্য করা কেবল সামাজিক কাজ নয়; এটি মানসিক সুস্থতার অংশ।

রমজান আমাদের ডিজিটাল ও সামাজিক কোলাহল থেকেও দূরে রাখে। কম কথা বলা, গীবত থেকে বিরত থাকা, অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়ানো এসব মানসিক চাপ কমায়। অন্তর ধীরে ধীরে শান্ত হয়।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো রমজান মানুষকে আশাবাদী করে। তাওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে মানুষ বিশ্বাস করে যে সে পরিবর্তন করতে পারে। অতীত ভুল হলেও ভবিষ্যৎ উন্মুক্ত। এই আশা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রমজান তাই কেবল ইবাদতের মাস নয়; এটি অন্তরের পুনর্গঠন, মানসিক পুনরুদ্ধার ও আত্মিক ভারসাম্যের মাস। এটি আমাদের শেখায় শান্তি বাইরে নয়, ভেতরে। আর সেই ভেতরের দরজা খুলে যায় আল্লাহর স্মরণে, সংযমে ও আত্মসমর্পণে।

আজকের অস্থির পৃথিবীতে রমজান আমাদের জন্য প্রয়োজন কারণ এটি আমাদের আবার মানুষ হতে শেখায়। এটি আমাদের হৃদয়কে কোমল করে, মনকে স্থির করে এবং আত্মাকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনে।

রমজান হোক আমাদের মানসিক প্রশান্তির মাস, আমাদের অন্তরের থেরাপি, আমাদের নতুন সূচনার প্রেরণা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট