
বছরের ক্লান্ত শরীর থেকে খসে পড়ে
জরাজীর্ণ দিনের খোলস।
বৈশাখ আসে,
একটি মমতাময় সূর্যের দীপ্তিতে।
পুরনো পঞ্জিকায় অতীত বনে যাওয়া তারিখগুলো
নীরবে সরে যায় ইতিহাসের কোণে,
আর নতুন সকাল
লাল-সাদা আলোর পতাকা তুলে দাঁড়ায় দিগন্তে।
মাটির থালায় পান্তা,
ইলিশ ভাজার ধোঁয়া ওঠা সুবাসে
মিশে থাকে নদীর স্মৃতি,
গ্রামের নিঃশ্বাস আর
শেকড়ের অমলিন আহ্বান।
আল্পনার সাদা নকশায়
মাটি যেন নিজের গল্প লিখে,
বাড়ির উঠোন হয়ে ওঠে
একটি নীরব শিল্পগাথা।
শিল্পীর তুলিতে আঁকা আলপনায়
রাজপথ হয়ে ওঠে নকশী কাঁথার মাঠ।
বাসন্তি শাড়িতে তারুণ্যের ঢেউ,
হাসির ভেতর লুকানো অজস্র সম্ভাবনা,
চোখে চোখে ছড়িয়ে পড়ে
নতুন দিনের উজ্জ্বল প্রতিশ্রুতি।
বৈশাখী মেলা বসে হাটে, মাঠে, ঘাটে
রঙের ভিড়ে হারিয়ে যায় ক্লান্তি,
বাঁশির সুরে ভেসে ওঠে
চিরপরিচিত কোলাহল।
হালখাতার পাতায়
নতুন করে লেখা হয় সম্পর্কের হিসাব,
সংখ্যার ভেতর জেগে ওঠে
বিশ্বাসের অনন্ত সমীকরণ।
মঙ্গল শোভাযাত্রা এগোয়
মুখোশে মুখোশে উচ্চারিত হয় প্রতিবাদ,
অশুভের বিরুদ্ধে
একটি সম্মিলিত সাহসের রঙিন ঘোষণা।
ঢাকের তাল, গানের সুর,
সাংস্কৃতিক আয়োজনের মঞ্চ
সব মিলিয়ে এক প্রবহমান উৎসব,
যেখানে সময় নিজেই থমকে দাঁড়িয়ে শুনে
মানুষের হৃদয়ের উচ্চারণ।
এই বৈশাখ
এক অগ্রযাত্রা,
নিজেকে নতুন করে গড়ার,
সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার,
আর একসাথে হেঁটে যাওয়ার অনন্ত শপথ।
বাঙালির এই আনন্দযাত্রা
কখনো থামে না
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে
একটি উজ্জ্বল উত্তরাধিকার হয়ে,
যার নাম
১ লা বৈশাখ।
Like this:
Like Loading...
Related