
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা: বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিন (TIN) কেবল কর দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন দৈনন্দিন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি-বেসরকারি সেবা লাভের অন্যতম চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ টিনধারী। যদিও এদের মধ্যে চলতি বছরে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন মাত্র সাড়ে ৪২ লাখ ব্যক্তি।
টিন হলো একজন করদাতার স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর। এর মাধ্যমে এনবিআর করদাতার আয়, কর পরিশোধ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য সহজে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪০ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে টিন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কর দেওয়ার চেয়েও বিভিন্ন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে মানুষ এখন টিন গ্রহণে আগ্রহী হচ্ছে।
টিন সার্টিফিকেটের প্রয়োজনীয়তা এখন প্রতিটি সেক্টরে বিস্তৃত। নিচে এর প্রধান ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরা হলো:
১. চাকরি ও পেশাজীবী সনদ:
সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মূল বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলে টিন থাকা বাধ্যতামূলক।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ (ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক) কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও এটি প্রয়োজন।
ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের মতো পেশাজীবীদের সনদ নিতে টিন অপরিহার্য।
২. ব্যবসা-বাণিজ্য ও লাইসেন্স:
সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা এলাকা থেকে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়নের জন্য টিন প্রয়োজন।
মোবাইল রিচার্জ ব্যবসা, ডিস্ট্রিবিউটর এজেন্সি, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং ক্যাটারিং সার্ভিসের মতো ব্যবসায়িক কাজের জন্য এটি বাধ্যতামূলক।
৩. স্থাবর সম্পত্তি ও যানবাহন:
জমি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচা এবং নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিন থাকতে হবে।
মোটরসাইকেল বা প্রাইভেটকারের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস নবায়নের ক্ষেত্রে টিন ছাড়া কোনো কাজ হবে না।
৪. ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেন:
ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিতে চাইলে টিন থাকা আবশ্যিক।
নতুন ক্রেডিট কার্ডের আবেদনের জন্যও এটি চাওয়া হয়।
৫. নির্বাচন ও সরকারি দরপত্র:
জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের যেকোনো নির্বাচনে প্রার্থী হতে টিন বাধ্যতামূলক।
সরকারি কোনো প্রকল্পের দরপত্রে অংশ নিতে হলেও টিন থাকতে হবে।
টিন নেওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। এনবিআরের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে খুব অল্প সময়েই নিবন্ধন সম্পন্ন করা যায়। জটিলতা কম থাকায় মানুষ ঘরে বসেই এটি সংগ্রহ করতে পারছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টিন সার্টিফিকেট এখন অনেকটা জাতীয় পরিচয়পত্রের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতের আইনি জটিলতা এড়াতে এবং প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুত পেতে আগেভাগেই টিন নিবন্ধন করা বুদ্ধিমানের কাজ। তবে টিন গ্রহণ করার পর নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।